“মি টু” আন্দোলন এবং নারী , [এম এ এ শামীম পাটওয়ারী]

Featured

পুরুষের সহজাত প্রবৃত্তি আর নারীর সহজাত প্রবৃত্তি কখনও একী রকম না। অবশ্য ব্যতিক্রম কিছু বিষয় ব্যতীত নারী এবং পুরুষের প্রবৃত্তি সম্পূর্ণই আলাদা। এক্ষেত্রে নারীকেই তার নিজের বিষয়ে বেশী সচেতন হতে হয়।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা তে পুরুষরা একটু বেশি রক্ষণশীল হবে এটা স্বাভাবিক। প্রথমে নারীকেই বুঝে নেওয়া উচিৎ তার নিজের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো। তারপর আসে শিক্ষা। শিক্ষা নারীকে তার ব্যক্তিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন করে তোলে। একজন নারীকে সচেতন করে গড়ে তুলতে হলে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরিবারের মা,খালা, ফুফু, নানী, দাদী; এদের ভূমিকা অগ্রগণ্য । এরাই প্রথমে একটি মেয়েশিশুকে বড় হতে হতে বুঝিয়ে দেয় কিভাবে তাকে চলাফেরা করতে হবে। কতটুকু শালীনতা বজায় চললে পুরুষের অনাকাঙ্খিত আচরণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে! এই শিক্ষাগুলো পরিবার থেকে দিতে হবেই। আমরা যতবড় আধুনিক সমাজেই বাস করি না কেন নারীর ভেতরের বিষয়গুলো নারীকে বুঝিয়ে দিতে হবেই। নাহলে পুরুষের ব্যাঘ্র থাবা থেকে কোনো নারীই রক্ষা পাবে না।

ধর্মীয় অনুশাসনে অনেক নিয়ম নীতি বেঁধে দেওয়া হলেও যতখন মানসিকভাবে কেউ নৈতিকতা মেনে না নিবে ততখন ধর্ম কোনভাবেই পরিবর্তন আনতে পারেনা। আল্লাহ, ভগবানকে ভয় পাওয়ার চেয়ে বড়কথা হলো নিজের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ তৈরী করা। পুরুষ যতটা না মানুষ,ঠিক তার সমতূল্য পশুও বটে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে নারীকেই সচেতন হতে হবে।
এই সমাজ একদিনে পরিবর্তন হবে না। তবে হ্যাঁ, ধীরেধীরে নারীর ভেতর সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু এই সচেতনতা বৃদ্ধি মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। যাচ্ছেতাই জীবনযাপন নয়। সবকিছুর ই একটা নিয়ম আছে৷ সেই নিয়মের মধ্যে থেকেই জীবনকে পরিচালনা করা সম্ভব।

অনেক মেয়েকে দেখেছি, পুরুষের সাথে কথা বলার সময় ঢলে পড়ে,গায়ে গায়ে ঘেঁষে আদিখ্যেতা দেখায়। কাউকে কাউকে তো দেখেছি পুরুষের পাশে বসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে।এরুপপরিস্থিতিতে পুরুষটি কি করবে! যেখানে পুরুষ নারীকে দেখামাত্র নিউরনে তেঁতে উঠে।সেখানে গায়ে পড়ে উস্কে দিলে বিষয়টি ভিন্ন কিছুতে রূপ ন্যায়। পুরুষ নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অস্বাভাবিক কিছু করে বসে। এমন বেল্লাপনা মেয়েদের জন্যই অনেক সভ্য,ভদ্র মেয়েরা, যারা নিজ যোগ্যতায় সম্মানের সাথেে এগিয়ে যেতে চায়,তারা লজ্জায় মুখ থুবড়িয়ে পড়ে থাকে। এসমস্ত মেয়ে যখন মা হবে তখন তাদের কাছ থেকে তাদের মেয়েরাইবা কি শিখে বা শিখবে! এরাই নারী্র চলার পথে এবং নারী জাগরণের পথে প্রধান অন্তরায়।

আজ “মি টু” নামে সারা পৃথিবীব্যাপী যে হইছই শুরু হয়েছে, তাতে কি রেজাল্ট আসবে জানি না, তবে এইটুকু বলা যায় ছিন্নভিন্ন আন্দোলনে কোনো গণ সচেতনতা বৃদ্ধি পায়না। শুধু হ্যাস ট্যাগ মেরে “মি টু” লিখে আমার গোপন কথা ফাঁস করে দিয়ে পুরুষটিকে বড়জোর লজ্জা দেয়া যায় তার বেশি হলে মামলা- মোকাদ্দমা করে শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কিন্তু এতে কি পুরুষ সমাজের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসবে? যেখানে নারী নিজেই নিজের ব্যাপারে সচেতন না। নারী নিজেই জানে না সে কতটুকু নারী, আর কতটুকু মানুষ! বাস্তব জ্ঞান বিবর্জিত যত আন্দোলনই হোক না কেন আল্টিমেট রেজাল্ট কিন্তু জিরো। যে সমস্ত পরিবার নিয়মকানুনের ধার ধারে না, সে সমস্ত পরিবারের মেয়েদের সচেতন না করতে পারলে কঠিন বাস্তবতা ধরা দিবে এটাই স্বাভাবিক। বাস্তব সত্য এমন অসংখ্য ঘটনা আমাদের চোখের সামনে প্রতিনিয়ত ঘটছে।”মি- টু” আন্দোলন পুরুষ সমাজকে একটা ধাক্কা দিবে সত্যি কিন্তু নারী যদি নারীর জায়গা থেকে সচেতন না হয় তবে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বাধ্য।

Writer: ADVOCATE[apprentice].